কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পের আগুনে ৩০ ট্যুরিস্ট জীপ ও ৩ বসতঘর পুড়ে ছাই

কক্সবাজারে একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩০টি পর্যটকবাহী জীপ ও অন্তত ৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের তিন পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। পাশেই রয়েছে পর্যটকবাহী গাড়ির একটি বড় গ্যারেজ। অগ্নিকাণ্ডে গ্যারেজে পার্কিং করা ৪০টি জীপের মধ্যে ৩০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন লাগার পর মাত্র ১০টি গাড়ি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পুরো গ্যারেজটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাড়ির মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম জানান, আড়াই মাস আগে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তার জীপটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। আগুনে সেটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
অগ্নিকাণ্ডে পাশের তিনটি বসতঘরও পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মুন্নী বেগম বলেন, আগুনের সময় সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পারলেও তার ঘরের আসবাবপত্র, ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। “জীবন নিয়ে বের হতে পেরেছি, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশে আশপাশের বাসিন্দারা এখনো রান্নাবান্না বন্ধ রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, আতঙ্ক কাটেনি। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাসায় গিয়ে অবস্থান করছেন।
সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংক ঘিরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাম্পটি মাত্র তিন দিন আগে চালু হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। অনুমোদনহীনভাবে পাম্প চালুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।








