Logo

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ইফতারে আপেল-মাল্টা এখন বিলাসিতা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫:১৭
নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ইফতারে আপেল-মাল্টা এখন বিলাসিতা
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় রমজান ঘিরে ফলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি ফলের দাম বেড়ে গেছে ৩০ থেকে ৭০ টাকা। বিশেষ করে আপেল ও মাল্টার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এক টুকরো আপেল বা মাল্টা ইফতারে একটি বিলাসিতার চিহ্নে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কৃষি প্রধান জেলা হলেও পাবনায় বরই ও পেয়ারা ছাড়া কোনো ফলের আবাদ হয় না। ফলে ঢাকার, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের ফল আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করা হয়। রমজানের দুই সপ্তাহ আগে দাম কিছুটা কম থাকলেও রমজান শুরুর আগের সপ্তাহ থেকেই বাজার উত্তাপ বৃদ্ধি পায়।

রমজানের প্রথম সপ্তাহে প্রতি কেজি ফলের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও রমজানের আগে তুলনায় ক্রেতাদের প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মূল্যসূচি: লাল আপেল: ৩৮০ টাকা (ফুজি ৩৪০, গালা ৪২০, সবুজ ৪০০); কমলা: কেনু ২৬০, ম্যান্ডারি ৩৫০, মাল্টা ৩৪০, বেদেনা ৫২০-৬১০; নাশপাতি: ৪৪০; আনারস: ৭০; তরমুজ: চলতি মৌসুম ৮০; বরই: ১০০; কলা: ৩০-৪০; খেজুর: ২৮০ থেকে ১৭০০; আঙুর: সাধারণ সবুজ ৪০০-৪২০, লাল ৫৫০, কালো ৫৬০।

ক্রেতারা জানিয়েছেন, এত বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের জন্য ফল কেনা কঠিন করে তুলেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দেশি ফলের দিকে ঝুঁকলেও সেখানে দামও স্বস্তিদায়ক নয়। ফলে ইফতার বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ফলে নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফল ক্রেতা হাফিজা হাসান বলেন, “সারাদিন রোজা রাখার পর কিছু ফলমূল রাখা প্রয়োজন। কিন্তু দাম এত বেশি যে তুলনামূলকভাবে শুধুমাত্র বরই ও পেয়ারা ক্রয়ের সুযোগ আছে।”

বিজ্ঞাপন

অন্য ক্রেতা রাইসুল বলেন, “রোজার আগে থেকে দাম বেড়ে গেছে। কোনো কোনো ফলে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। সরবরাহ কমানোর অজুহাতে বিক্রেতারা দামের নিয়ন্ত্রণ করছে।”

ফল ব্যবসায়ী ফজলু জানান, “দাম কিছুটা কমেছে, আমরা তালিকা অনুযায়ী বিক্রি করি। অতিরিক্ত মূল্য নিই না। তবে বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রধানত ঢাকা থেকে আমদানি করা ফলের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম ওঠানামা করে।”

বিজ্ঞাপন

পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, “রমজানের বাড়তি চাহিদাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম রাখে। আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি, অসঙ্গতি পাওয়া গেলে জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তবুও তারা চেষ্টা করেন, ক্রেতাদের জন্য দাম সহনীয় রাখতে।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD