বগুড়া পৌর পার্কে দিনে ঢালাই শেষে রাতেই ধস পড়ল ছাদ

বগুড়া পৌর পার্কে নির্মাণাধীন একটি ব্যায়ামাগারের ছাদ ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৯ মার্চ)। দিনের বেলা ঢালাই শেষ হলেও রাতের মধ্যে ছাদ ভেঙে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা মূল কারণ।
স্থানীয় শরীরচর্চা অনুরাগী মাজেদুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোরে ব্যায়াম শেষে একটি টিনের শেডে বিশ্রাম নিতাম। স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানানোর পরই পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যায়ামাগার নির্মাণ শুরু করে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এসে দেখি, নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। পুরোপুরি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও এটি ঘটতো, তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে বুধবার (১১ মার্চ) দেখা যায়, ধসে পড়া ব্যায়ামাগারটি এখনও অপরিষ্কৃত অবস্থায় রয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য পার্কে প্রবেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পৌর পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় ব্যায়ামাগারটি নির্মাণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গত বছরের ২৯ জানুয়ারি কাজ শুরু করার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল ১১ নভেম্বর।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ট্রেডার্সের মালিক জয় হাসান বলেন, ছাদের একটি খুঁটির গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় খুঁটিটি নড়ে যায়। এর ফলে ছাদের ওপর চাপ পড়ে ধসের ঘটনা ঘটেছে। এটি আমাদের অবহেলা নয়।
বিজ্ঞাপন
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ছাদ ধসে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে পার্ক ব্যবহারকারীরা নিরাপদে ব্যায়ামাগার ব্যবহার করতে পারেন।








