টানা ভারী বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি শতাধিক মানুষ

টানা ভারী বৃষ্টিপাতে মৌলভীবাজার পৌর এলাকায় আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি জমে প্রায় ৬০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
শহরের প্রধান পানি নিষ্কাশন পথ কোদালি ছড়া খালটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় এর ধারণক্ষমতা কমে গেছে, ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের লেইক রোড, সৈয়দ মুজতবা আলী সড়ক, এম সাইফুর রহমান সড়ক, গবিন্দশ্রী সড়ক, ধরকাপন সড়ক, পূর্ব গির্জাপাড়া, পশ্চিমবাজার রোড ও ওয়াপদা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে আছে। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও নালা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ না পেয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন দাশ বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবার টানা বৃষ্টিতে ঘরে কোমরসমান পানি উঠেছে। ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি।
ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দোকানের মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার না করায় প্রতি বছর একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যা। এবার ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।
পশ্চিমবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, পানি উঠে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতি আরও বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় উজানসহ মৌলভীবাজারে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় নগর পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার পৌর প্রশাসক রুবেল আহমদ বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য আমাদের কর্মীরা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








