সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে খুলনায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের একটি মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সালাম মোড়লের মা রাশিদা বেগম, মেয়ে নববধূ মিতু ও ছোট মেয়ে লামিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশা গ্রামে আনার পর সকালে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পরিবারের কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। কনের নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহও তাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, সেখানে তাকে দাফন করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। যে ঘরে বিয়ের আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন শোকের মাতম। নববধূর বাবা আব্দুস সালাম মাঝেমধ্যে শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। নিহতদের জন্য এলাকার মানুষ দোয়া করছেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। মাইক্রোবাসে ছিল কয়রার নাকশা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। আর বাকি বরের পরিবারের ৯ জনের মরদেহ মোংলায় নেওয়া হয়। সেখানেও তাদের দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ।








