নবদম্পতি সাব্বির-মার্জিয়ার বিয়ে হয়ে উঠল ট্র্যাজেডি

হাতে মেহেদির গাঢ় রঙ এখনও তাজা, নতুন জীবনের স্বপ্ন চোখে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে বরের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন সাব্বির ও মার্জিয়া আক্তার (মিতু)। কিন্তু রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে পড়ল। দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা দুই পরিবারের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনার পরপরই রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাতমের আবহ তৈরি হয়। যেখানে আজ নতুন বউকে স্বাগত জানানোর আয়োজন থাকলেও, সেখানে এখন সারি সারি লাশের মিছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
নিহত মার্জিয়ার মামা আবু তাহের বলেন, দুপুরে কয়রা থেকে পরম আনন্দে মিতুকে শ্বশুরবাড়ি পাঠালাম। আমার বোনঝি আর নানি— সবাই তো একসঙ্গে ছিল। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।
বিজ্ঞাপন
বর সাব্বিরের পরিবারের সদস্যরাও শোকাচ্ছন্ন। দুর্ঘটনায় মার্জিয়ার সঙ্গে তার বোন লামিয়া এবং নানিও প্রাণ হারান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসটিতে বরের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব হাসি-তামাশা করতে করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সব হাসি স্তব্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারের সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন, যা তারা আজও ভুলতে পারছেন না।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, চারজনের মরদেহ তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ পৌঁছেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ রয়েছেন।
নবদম্পতি ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবনযাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের আনন্দে সাজানো স্বপ্নগুলো আজ শেষ ঠিকানায় গোরস্থানে। বিয়ের শাড়ি ও পাঞ্জাবি যেন নিস্তব্ধ মৃত্যুর চাদরে ঢেকে গেছে। দুই পরিবার শোকের ছায়ায় আবৃত এবং এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল।
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনা পুরো রামপাল ও আশেপাশের এলাকায় শোকের ছাপ ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মৃতদেহ উদ্ধার ও সৎকারে দ্রুত কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে দুই পরিবারের আক্ষেপ ও বেদনা অশেষ।








