বরগুনায় বজ্রপাতের শব্দে আতঙ্ক, ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

বরগুনার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—হাবিবা, জান্নাতি, ইয়াসমিন, মিম, জান্নাতি, ঐশী, রিয়া মনি, মনিরা, রুমি, কারিমা ও রিয়া মনি। তারা সবাই প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই ওইদিন সকালে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর স্কুলের সামনে থাকা একটি তালগাছে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে ফুলঝুড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোট ১১ জন শিক্ষার্থীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, ক্লাস চলাকালে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ সামনে থাকা তালগাছে বজ্রপাত হয়। এতে বিকট শব্দে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যারা বেশি অসুস্থ হয়েছে তারা মূলত তৃতীয় তলার ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিজ্ঞাপন
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বজ্রপাতটি স্কুলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় শব্দটি ছিল খুবই জোরালো। এতে অনেকেই ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ওবায়দুল কবির জানান, হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে সবাই ক্লাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের শব্দে তৃতীয় তলায় থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে কথা বলতে পারেনি। পরে তাদের স্কুলের হাইজিন কর্নারে নিয়ে প্রাথমিকভাবে সেবা দেওয়া হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। পরবর্তীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে নেওয়ার পর সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত বজ্রপাতের শব্দে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা সহপাঠী ও স্বজনদের চিৎকারে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। প্রয়োজন হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।








