Logo

মৌলভীবাজারে হঠাৎ বন্যা, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:০৮
মৌলভীবাজারে হঠাৎ বন্যা, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়া উপজেলার গোপালীছড়ায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর ও শ্রীপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। এতে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। একই সময়ে সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদীর তীব্র ভাঙনে একটি কবরস্থান, একটি মক্তব এবং ছয়টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর পানি উপচে পড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাজনগর উপজেলার উদনা নদী সংলগ্ন পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামেও পানি ঢুকে পড়ায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭টি উপজেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বেড়েছে। জুড়ী নদীর পানি কিছু সময় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুরের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কমলগঞ্জের পতনঊষার এলাকার বাসিন্দা কামাল আহমেদ জানান, রাতের বৃষ্টির পর হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে এবং সকালে বাড়িঘর ও রাস্তায় পানি উঠে যায়।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়লেও দ্রুত পানি নামতে শুরু করেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন জানান, আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদীর তীরবর্তী প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ এলাকা ভেঙে গেছে, এতে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানি বেড়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD