মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তরে টেন্ডার দূর্ণীতি ও ভুয়া বিল উত্তোলনের অভিযোগ

মনজু বিজয় চৌধুরী: মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তরে টেন্ডার দূর্ণীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, দীর্ঘ দিন একি স্থানে কর্মরত থেকে আধিপত্য বিস্তার করে চলছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের এই টেন্ডার ও বিল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেরামত ও নির্মাণ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমিশনের নিয়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট
সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বাইরে অন্যদের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিযোগিতার সুযোগ কমছে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজবাড়ির একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ২টি লাইসেন্সে ১৩টি, চট্টগ্রামের ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৪টি, আর বি.বাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩টি টেন্ডার পেয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদারের কোটেশন রহস্য জনক ভাবে লটারীতে উঠেনা।
গত ২৪ জুলাইর ৫ আগষ্টের পর উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহীর ভাগ্য খোলে যায়। নেছার আহমেদ এর মনুমুখ সাধুহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঠিকাদারের কাজ বাতিল করে শিক্ষা অধিদপ্তর। পরে শিক্ষা অধিদপ্তর কৌশলে ঐ কাজটি তারা নিজ দায়ীত্বে করে। শুধু মালামাল সাপ্লাইয়ের জন্য মৌলভীবাজার মা এন্টারপ্রাইজ ঠিকদারী প্রতিষ্ট্রানের সাথে চুক্তি করা হয়। ওই প্রতিষ্ট্রান ৯৯ লাখ টাকার মালামাল সাপ্লাই করার পর ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর বাকী টাকা পরিশোধ করেনি শিক্ষা অধিদপ্তর।
এছাড়া কুলাউড়া গিয়াসনগর মাদ্রাসায় বালু ভরাট ও ঢালাই কাজের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে মাটি ছেড়ে ঢালাই করা হয়। মৌলভীবাজার সদর এলাকার বঙ্গবন্ধু স্কুলের রিপেয়ার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার চলে যাওয়ার পরও উপ-সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী কৌশলে বিল উত্তোলন করেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন ও উপ-সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী টেন্ডার নোটিশ সময়মতো প্রকাশ না করে পছন্দের ঠিকাদারকে গোপনে কাজ দিয়ে দেন এবং পরে ডেইটের কোন একটি পত্রিকায় টেন্ডার নোটিশ ছাপিয়ে দেন।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহী অভিযোগ অস্বীক্ষার করে বলেন, আমি কিছু বলতে পারবোনা। সবকিছু নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার বলতে পারবেন। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে আবু সাইদ স্বীক্ষার করে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার যা করেন সবকিছু আগে আমার সঙ্গে পরামর্শ করে করেন।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতিশ চন্দ্র দাস বলেন, “আগে কাজ করে পরে টেন্ডার প্রকাশ করার কোনো বিধান আমাদের এখানে নেই। আর আমার উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ মোহাম্মদ রাহীর ব্যাপারে যেই কমপ্লেইন করুক, সে হয়তো তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে করেছে। যা মিথ্যা এবং বানোয়াট। তার কোনো প্রভাব বা দাপট দেখানোর সুযোগ নেই। অফিসের সব কাজ আমি নিজেই তদারকি করি। আমরা স্টাফ সংকটে আছি সে আমার অফিসে সাড়ে তিন বছর। এর আগে সে ফিল্ডে ছিল। আর একজন ঠিকেদারের চেক অন্য ঠিকেদারকে নামে করার কোনো সুযোগ নেই। অফিসের সব কাজ আমি নিজেই তদারকি করি। কিছু ঠিকাদার কাজের মান ঠিকভাবে করেননি, কিছু জায়গায় রঙের কাজ দুর্বল ছিল। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা হয়তো নিজের স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে এমন অভিযোগ করেছেন।”
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ার আলোকে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বিল সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে। সরকারি তদারকি ছাড়া প্রকৃত স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।








