খাবার চাওয়ায় বৃদ্ধা মাকে মারলো ছেলে, গলায় কলস ঝুলিয়ে বাজার ঘোরালো এলাকাবাসী

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বৃদ্ধা মায়ের ওপর নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে পুরো বাজার ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে দেওয়া এই ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক শাস্তিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ওই শাস্তি কার্যকর করা হয়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের উপস্থিত ছিলেন।
শাস্তিপ্রাপ্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সহিদ। তিনি একই ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সহিদ বাড়িতে ছাগলের মাংস রান্না করলেও তার বৃদ্ধা মাকে এক লোকমা খাবারও দেননি। বরং মা খাবার চাইলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী মা স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করলে শনিবার রাতে চৌকিদার দিয়ে সহিদকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। রবিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাকে গলায় একটি পানির কলস ঝুলিয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় কলসে পানি ভরে তাকে পুরো বাজার ঘোরানো হয় এবং উচ্চস্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সহিদকে বলতে বলা হচ্ছে— ‘এই শাস্তি কিসের লাই? মারে মারার লাইগা।’
ভিডিওতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, কোনো লোক যদি মাকে ভাত না দেয় বা মারধর করে, তাকে পুলিশে দেওয়ার দরকার নেই। আমরা এখানেই বিচার করব। এই লোক এখন গোটা বাজারে হাঁটবে আর নিজের অপরাধ স্বীকার করবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, জেল-হাজতের চেয়ে এই ধরনের সামাজিক লজ্জা বেশি কার্যকর। তাদের মতে, এমন শাস্তি দেখে সমাজের অন্য অবাধ্য সন্তানরা সতর্ক হবে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে শিখবে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ হিসেবে এই তাৎক্ষণিক শাস্তিকে সমর্থন করলেও অন্যরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য শাস্তি না দিয়ে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত ছিল। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিরও পরিবার ও সংসার রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের সমাজে অনেক সময় মানুষ নিজের মায়ের ওপর হাত তুলতেও দ্বিধা করে না। অথচ এই মা-ই দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে বড় করে তোলেন। সন্তান বড় হওয়ার পর অনেকেই সেই ত্যাগের কথা ভুলে যায়। ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।








