ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ইতিহাস গড়ল শ্রাবন্তী ত্রিপুরা

বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দূর্গম প্রত্যন্ত কিষ্টপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী ত্রিপুরা আজ ইতিহাস গড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম এমবিবিএস শিক্ষার্থী হিসেবে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন।
জুমচাষে নির্ভরশীল ছয় সদস্যের পরিবারে জন্ম নেওয়া শ্রাবন্তীর শৈশব ছিল সংগ্রামমুখর। মা-বাবা দুজনেই একমাত্র উপার্জন পথ ঝুম চাষ। বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সামান্য আয়ে সংসার চললেও তাঁদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যয় হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ছোটবেলা থেকেই শ্রাবন্তীর ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করা। তার ইচ্ছে পূরণ করার জন্য মা-বাবা তাকে বাড়ি থেকে দূরে দক্ষিণ কুতুবছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস থ্রিতে ভর্তি করিয়ে রেখে যান হোস্টেলে। মাঝে মাঝে পড়ার টেবিলে দূরের বাড়ির লোকজনদের কথা মা-বাবার, ভাই বোনদের কথা মনে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিতে শুরু করেন। ভর্তি রোল ৭২ থেকে উঠে এসে ক্লাস ফোরে প্রথম স্থান অর্জন, পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া, এবং ধারাবাহিকভাবে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন তাঁর অধ্যবসায়ের প্রমাণ।
এই সংগ্রামের জীবন দেখে তার ইচ্ছে তৈরি হয় গ্রামের মানুষের একজন ডাক্তার হয়ে পরিবারকে গর্বিত করা এবং চিকিৎসা বঞ্চিত গ্রামীণ মানুষকে সেবা দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে তিনি হতাশ হয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। সরকারি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ নার্সিং কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন এবং দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় অবশেষে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পান। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে—স্বপ্ন দেখলে এবং পরিশ্রম করলে ফল কখনো বৃথা যায় না।
শ্রাবন্তীর বড় বোন প্রীতি ত্রিপুরাও বিএসসি নার্সিং শেষ করে বর্তমানে কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেজিস্টার্ড নার্স হিসেবে কর্মরত। চার ভাইবোনের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন—তাদের প্রত্যেকেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
বিজ্ঞাপন
শ্রাবন্তী ত্রিপুরার জীবন যুদ্ধ আমাদের শেখায়—অসুবিধা নয়, অধ্যবসায়ই মানুষের ভাগ্য গড়ে দেয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর জীবন যুদ্ধের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে চাইলে এগিয়ে যেতে পারে। লেখকের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে এক পর্যায়ে এভাবেই তাঁর জীবন যুদ্ধের গল্পের উত্তর দিয়েছিলেন পাহাড়ি কন্যা শ্রাবন্তী ত্রিপুরা।








