চাঁদপুরে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন, ৬ মুসল্লিকে নিয়ে জামাত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে চাঁদ দেখার ভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতপার্থক্যের কারণে এবারও আলাদা দিনে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা এলাকায় মাত্র ৬ মুসল্লিকে নিয়ে নিজ বাড়ির আঙিনায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এই জামাতের আয়োজন করেন মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি সাদ্রা দরবার শরীফের প্রয়াত পীর মাওলানা ইছহাক সাদ্রাবীর সন্তানদের একজন। জামাতে তিনি নিজেই ইমামতি করেন।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামে সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপন করে আসছেন। তবে দরবারের পীরের মৃত্যুর পর থেকে বংশধরদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে ঈদ উদ্যাপনের তারিখ নির্ধারণেও।
বিজ্ঞাপন
এই মতপার্থক্যের জেরে বর্তমানে একই পরিবারের বিভিন্ন পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদ পালন করছেন। বর্তমান পীর মুফতি আরিফ বিল্লাহ সাদ্রা এবং তার চাচা জাকারিয়া আল মাদানী একদিন আগে পৃথক জামাতের মাধ্যমে ঈদ পালন করে থাকেন।
অন্যদিকে মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক গত বছর থেকে দুই দিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি অল্পসংখ্যক মুসল্লিকে নিয়ে ঈদের জামাত সম্পন্ন করেন।
মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে এবং সেখানে ঈদ উদ্যাপন শুরু হলে অন্য স্থান থেকেও তা অনুসরণ করা যেতে পারে। আফগানিস্তানে চাঁদ দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে সেখানে ঈদ উদ্যাপন হওয়ায় তারা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখেই ঈদ পালন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে বর্তমান পীর মুফতি আরিফ বিল্লাহ সাদ্রা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে ঈদ পালন করার নীতিতে তারা বিশ্বাসী হলেও এবার আফগানিস্তানে চাঁদ দেখার পদ্ধতি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এ কারণে তারা নির্ধারিত দিনে ঈদ উদ্যাপন করেননি।
স্থানীয়ভাবে এই ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে একই এলাকায় একাধিক দিনে ঈদ উদ্যাপনের ঘটনা ঘটছে, যা প্রতি বছরই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও মতপার্থক্যের কারণে এমন বিভাজন তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছেন।








