Logo

পদ্মায় বাসডুবি, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ আব্দুল আজিজ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ী
২৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৫
পদ্মায় বাসডুবি, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ আব্দুল আজিজ
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন গার্মেন্টস কর্মী আব্দুল আজিজ। স্বজন হারানোর বেদনায় তিনি বলেন, আমার আর কিছুই নেই। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল আজিজের বাড়ি কালুখালী উপজেলা-এর রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে। দুর্ঘটনায় তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), একমাত্র ছেলে আবদুর রহমান (৬) এবং খালা শাশুড়ি নাসিমা বেগম (৪০) নিহত হয়েছেন। গত ২৬ মার্চ জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে স্ত্রী ও সন্তানকে দাফন করেন তিনি।

দুর্ঘটনার দিনটির বর্ণনা দিতে গিয়ে আব্দুল আজিজ জানান, ঈদের ছুটিতে গত ১৯ মার্চ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে ২৫ মার্চ বিকেলে তারা আবার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় গান্ধীমারা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠেন তারা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাসটি বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রী তুলে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার জন্য বাসটি পন্টুনের ঢালে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ চালক ফোনে উত্তেজিতভাবে কথা বলার পরপরই বাসটি জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে সামনে এগিয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়, ছেলে ছিটকে পড়ে যায়, আমি স্ত্রীর হাত শক্ত করে ধরেছিলাম। কিন্তু দুই সেকেন্ডের বেশি ধরে রাখতে পারিনি। কীভাবে আমি বেঁচে গেলাম, তা এখনো বুঝতে পারছি না। চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তান পানিতে তলিয়ে গেল।”

দুর্ঘটনার পর পুরো রাত তিনি নদীর পাড়েই অবস্থান করেন। রাত ১২টার দিকে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। পরে হাসপাতালে গিয়ে তা শনাক্ত করেন। পরদিন ভোরে সন্তানের মরদেহও উদ্ধার হলে সেটিও শনাক্ত করেন তিনি। এরপর স্বজনদের মরদেহ নিয়ে বাড়িতে ফেরেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া ৫টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা-এর দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট এলাকায় ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD