Logo

​পাবনায় হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, আক্রান্তের শীর্ষে শিশুরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৫৩
​পাবনায় হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, আক্রান্তের শীর্ষে শিশুরা
ছবি: প্রতিনিধি

হাম রোগের আশঙ্কাজনক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে পাবনা জেলায়। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

বিজ্ঞাপন

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতাল-এ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ৩৮ শয্যার নির্ধারিত ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। কক্ষ ছাড়িয়ে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি কাঁচঘেরা আইসোলেশন কক্ষ থাকলেও শয্যা সংকটে সেখানে একটি বেডেই ২-৩ জন শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬ জন এবং গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনই শিশু। আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৪ মাস থেকে ৬ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে ১২ জন ছেলে ও ৯ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। এছাড়া ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিভাবকরা হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক রাউন্ডে আসছেন না। প্রাথমিকভাবে দেওয়া ওষুধ দিয়েই নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।

আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক মা জানান, প্রথমে জ্বর, পরে সারা শরীরে লাল গুটি দেখা দেয় এবং শিশুরা তীব্র ব্যথায় ছটফট করে, ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না। অপর্যাপ্ত সেবা ও ওষুধ সংকটে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র পরিবারগুলো।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে—যা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর ইসলাম জানান, হামের রোগী বাড়ায় তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, “৩৮ শয্যার বিপরীতে ২০০ রোগী সামলানো অত্যন্ত কঠিন। শয্যা ও ওষুধের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হামের জন্য নতুন একটি ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD