গৃহবিবাদ এখন অফিসে, স্ত্রীর অভিযোগে বরখাস্ত সরকারি কর্মকর্তা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিন্নাত আরা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সাইফুল ইসলামকে তার গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: মুফতি আমির হামজাকে আইনি নোটিশ
এর আগে পরকীয়া সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে থাকলেও তার চাকরির বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা আরও আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় কারাগারে থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। তবে এ ক্ষেত্রে দেরিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়েও সমালোচনা দেখা দেয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী জানান, পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয়ে আপস না করায় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার কথাও বলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে তিনি দুই সন্তান নিয়ে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকায় এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে জানানো হলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।








