ধরলা নদীর বুকে অদম্য এক বৃদ্ধ, ভিটেমাটি ছাড়বে না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদী বারবার কেড়ে নিয়েছে তার বসতভিটা। অগণিতবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। তবুও পৈতৃক ভিটা ছেড়ে কোথাও যাননি। অদম্য মনোবলের এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী।
বিজ্ঞাপন
চারদিকে শুধু খোলা আকাশ আর উত্তাল নদী। মাঝখানের একটি ছোট চর, যেখানে কাশবন আর ভূট্টা ক্ষেতের মাঝে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি টিনের চালা। বিদ্যুৎ নেই, আধুনিক কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। জীবনের প্রয়োজন মেটাতে নৌকাই তার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন নদী পাড়ি দিয়ে চলাফেরা করেন, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকেন।
চরের এই নিঃসঙ্গ জীবনে তার স্ত্রী দুলালী বেগম সহ গরু-ছাগল ও হাস মুরগি পালন করেন। বালুচরে তিনি চাষ করেন ভূট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল, যা তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।
বিজ্ঞাপন
বারবার নদীভাঙনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি হার মানেননি। পৈতৃক ভিটার প্রতি তার টান এতটাই গভীর যে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এখানেই থাকার দৃঢ় সংকল্প তার।
তার ৫ ছেলে-মেয়ে সবাই পাশ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করলেও তিনি চাইছেন আমৃত্যু পৈতৃক ভিটাতেই থাকতে। নিজ স্বাভাবিক ভাষায় তিনি বলেন, “এই ভিটা আমার বাবার, দাদার। মরলেও এখানেই মরব, কোথাও যাব না।”
বিজ্ঞাপন
ধরলা নদীর ভাঙন শুধু জমি কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও শেকড়। কিন্তু এই বৃদ্ধ যেন সেই শেকড় আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক প্রতীক—এক অনড় ভালোবাসা, মাটির প্রতি, জন্মভূমির প্রতি।








