কচুরিপানার স্তূপে থমকে ফেরি, বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার নৌপথে চরম ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ফেরিঘাট এলাকায় কচুরিপানার বিশাল স্তূপে আটকে পড়ে একটি ফেরি। প্রায় দুই ঘণ্টা মেঘনা নদীর মাঝখানে স্থবির হয়ে থাকায় দুই পাড়ে আটকা পড়েন শত শত যাত্রী ও যানবাহন। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানযট ও ভোগান্তি, বিপাকে পড়েন জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার নৌরুটে চলাচলরত ফেরিটি হঠাৎ নদীর বুকে ভাসমান কচুরিপানার ঘন জটলায় আটকে পড়ে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কচুরিপানার স্তূপ আরও ঘন হয়ে ওঠায় ফেরিটি সামনে কিংবা পেছনে কোনো দিকেই অগ্রসর হতে পারেনি।
ফেরি আটকে পড়ার খবরে দুই ঘাটেই যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিকল্প নৌযানের সংখ্যা সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে।
বিজ্ঞাপন
মাইক্রোবাসচালক সজীব মিয়া বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রী আনতে যেতে হবে। কিন্তু ফেরিঘাটে এসে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছি। কখন যেতে পারব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
সিএনজিচালক মোমেন মিয়া জানান, আড়াইহাজার থেকে যাত্রী নিয়ে বাঞ্ছারামপুরে এসেছিলাম। ফেরার পথে এসে দেখি ফেরি কচুরিপানায় আটকে আছে। কখন যেতে পারব, বলা মুশকিল।
ঘাটে অপেক্ষমাণ একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান মিলছিল না। রোগী ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচর এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল নদীতে কচুরিপানা জড়ো করে ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঝেমধ্যেই কচুরিপানার বড় জটলা তৈরি হয়ে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কচুরিপানার অতিরিক্ত চাপেই ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝনদীতে আটকে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
ফেরির ইজারাদার মাহবুবুল হাসান বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরিটি কচুরিপানায় আটকে ছিল। পরে স্টাফ পাঠিয়ে কচুরিপানা সরানো হয়েছে। বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।








