Logo

সুন্দরবন ও উপকূলে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কয়রা, খুলনা
১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৪২
সুন্দরবন ও উপকূলে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত
ছবি প্রতিনিধি।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এক বিবৃতিতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

গত দেড় বছরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বাহিনীর সদস্যরা অন্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় কিছু অসাধু চক্র সুন্দরবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত বৈঠক ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দস্যু দমনে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং আস্থাও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। দস্যু চক্র পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD