Logo

বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:১৭
বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার জেরে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পাশাপাশি কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে কালান্দার বাবা হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও তার বাড়িতে সরাসরি হামলার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, শফি মণ্ডল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফোনে তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে নেই এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।

শিল্পীর মেয়ে লিনা মণ্ডল বলেন, তার বাবা একজন সাধনাভিত্তিক সংগীতশিল্পী এবং বিভিন্ন দরবারে সংগীতচর্চার অংশ হিসেবে যাতায়াত করেন। ফিলিপনগরে তাদের বাড়ি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দরবার শরিফেও তিনি গিয়েছিলেন। তবে সেই সময়ের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী এবং সাঁইজির বাণী প্রচারে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। ভিডিওটিতে কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। সেখানে শফি মণ্ডলকেও তার পাশে বসা অবস্থায় দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। একই সময় দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত তিনজন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

পরদিন রবিবার (১২ এপ্রিল) কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD