Logo

মহেশপুরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও সেচ সংকটে বিপাকে কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মহেশপুর, ঝিনাইদহ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৪০
মহেশপুরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও সেচ সংকটে বিপাকে কৃষক
ছবি প্রতিনিধি।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এ মৌসুমে মোট ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আবাদ বৃদ্ধি পেলেও মাঠ পর্যায়ে তীব্র সেচ সংকট, ডিজেলের ঘাটতি এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হাইব্রিড জাতের ধান ১৭০ হেক্টর এবং উফশী জাতের ধান ২১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-২৯, মিনিকেট, ব্রিধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ৮৯, ৯২, ১০১, ১০২, ১০৪, ১০৭, ১০৮ এবং বিনাধান-২৫সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান।

সেচ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মোট ৫১২৫ হেক্টর জমিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প এবং ১৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের সংকট বর্তমানে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে ৫০০ টাকার বেশি ডিজেল না পাওয়ার কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আজমপুর, পান্তাপাড়া ও যাদবপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা জানিয়েছেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং মাঠ থেকে ধান ঘরে তুলতে অতিরিক্ত ব্যয় কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবুও বর্তমানে মাঠজুড়ে ধান গাছে শীষ বের হতে শুরু করেছে এবং অনেক ক্ষেতেই সোনালী আভা দেখা যাচ্ছে, যা দ্রুত ফসল কাটার উপযোগী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেচ সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হলেও প্রত্যাশিত বাম্পার ফলন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD