Logo

বৈশাখের আগেই ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, হতাশ ক্রেতারা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৪৬
বৈশাখের আগেই ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, হতাশ ক্রেতারা
ছবি: সংগৃহীত

চৈত্রসংক্রান্তির দিন পেরিয়ে সামনে পহেলা বৈশাখ। বর্ষবরণ ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পান্তা-ইলিশ’কে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। তবে উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়েছে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে।

বিজ্ঞাপন

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য আড়তে ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্বী। সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়ের বাজারেই ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ৯০০ থেকে ১১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। একইভাবে ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, ৪০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং ছোট জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মণ দরে।

বিজ্ঞাপন

পাইকারি বাজারে এই দামের ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে খুচরা বাজারেও। শহরের নিউ মার্কেটসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক অনেক বেশি দামে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না, ফলে মাছ ধরা কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও কমে গিয়ে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।

মহিপুরের এক আড়ৎ ব্যবসায়ী শাহআলম হাওলাদার বলেন, সাগরে মাছের পরিমাণ কম, আবার তেলের সংকটে জেলেরা ঠিকমতো যেতে পারছেন না। সামনে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে, সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা সংকটে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ইলিশের দাম দেখে তিনি বিস্মিত। তার মতে, বর্তমান বাজারে ইলিশের দাম স্বর্ণের চেয়েও বেশি মনে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী জানান, চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বৈশাখের সময় স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বেশি থাকে, কিন্তু এবার সরবরাহ কম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ইলিশের চাহিদা বাড়ে। তবে এ বছর সাগরে মাছের স্বল্পতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে জেলেদের সাগরে যাওয়া কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তিনি আরও জানান, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD