Logo

জীবননগরে প্রবীণ মুসাব আলীর সংগ্রাম, গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা
২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩
জীবননগরে প্রবীণ মুসাব আলীর সংগ্রাম, গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি
ছবি: প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭৩ বছর বয়সী মোঃ মুসাব আলী। প্রয়াত বাহাজ্জেল মন্ডলের ছেলে তিনি। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক এই প্রবীণ ব্যক্তি আজও থেমে নেই জীবিকার সংগ্রামে—কাঁধে বাঁকে মিষ্টি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান প্রতিদিন।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ২১ বছর ধরে তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন কাঁধে বাঁকে করে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মিষ্টি বিক্রি করেন। তার বিক্রিত ছোট মিষ্টির দাম ১০ টাকা এবং বড় মিষ্টির দাম ২০ টাকা। দিনে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার মিষ্টি বিক্রি হলেও খরচ বাদ দিলে হাতে খুব বেশি কিছু থাকে না।

মুসাব আলী জানান, সপ্তাহে পাঁচ দিন তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মিষ্টি বিক্রি করেন। তবে বয়সের ভারে আগের মতো দীর্ঘ পথ হাঁটা এখন আর সম্ভব হয় না। এতে তার আয় কমে গেছে এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

জীবনের শুরুর দিকে তিনি কৃষিকাজ করতেন। কিন্তু চাষাবাদে লাভবান না হওয়ায় প্রায় ২১ বছর আগে পেশা পরিবর্তন করেন। পার্শ্ববর্তী এক চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে মিষ্টি তৈরির কাজ শিখে শুরু করেন এই ব্যবসা। বর্তমানে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতেই মিষ্টি তৈরি করেন তিনি।

সম্প্রতি চিনির দাম কমায় তিনি মিষ্টির দামও কিছুটা কমিয়েছেন। আগে যেখানে প্রতি কেজি মিষ্টি ৩০০ টাকায় বিক্রি করতেন, বর্তমানে তা ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বিজ্ঞাপন

বয়সজনিত শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। তবুও থেমে নেই তার জীবনসংগ্রাম। প্রতিদিনের মতো এখনও কাঁধে বাঁকে মিষ্টি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গ্রাম থেকে গ্রামে—শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়।

এই প্রবীণ মানুষের সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন যত কঠিনই হোক, হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই সত্যিকারের বেঁচে থাকা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD