তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টির আঘাত, মরিচ-পেঁয়াজ চাষে কোটি টাকার ক্ষতি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় দুই কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা,চিনা,শাকসবজি, মরিচ,পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
উপজেলাটির ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ ক্ষেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র।
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন। তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।
বিজ্ঞাপন
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।









