Logo

রাক্ষুসী কন্টিনালা নদীর ভাঙনের আতঙ্কে মৌলভীবাজার

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
জুড়ী, মৌলভীবাজার
২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৫১
রাক্ষুসী কন্টিনালা নদীর ভাঙনের আতঙ্কে মৌলভীবাজার
ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীটি ক্রমেই রাক্ষুসী রূপ ধারণ করায় প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের। ইতোমধ্যে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেলেও এখনো শতাধিক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

জানা গেছে, কন্টিনালা নদীর প্রায় ৪৩ কিলোমিটার এলাকা—রাবার ড্রাম পর্যন্ত—উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীর দুই তীরে একসময় ১৬৬টি পরিবারের বসতবাড়ি থাকলেও অনেকের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জুড়ী উপজেলার বেলাগাঁও, সোনাপুর, গরেরগাঁও, দক্ষিণ জাঙ্গীরাই ও শোলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নদীর পাশ দিয়ে চলা একমাত্র গ্রামীণ সড়কটিই প্রধান ভরসা। তবে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয়রা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

নদী ভাঙনের কারণে গবাদিপশু ও পোষা প্রাণী নিয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যাও।

ভুক্তভোগীরা জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদী ভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তারা কন্টিনালা থেকে রাবার ড্রাম পর্যন্ত নদী তীর সংরক্ষণে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওলিদ বলেন, “ভারত থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী ভাঙনে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। নদী তীরবর্তী শত শত পরিবারের শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD