উধাও পেট্রোল পাম্পে ভিড়, স্বাভাবিক সরবরাহে কমেছে আতঙ্ক

চট্টগ্রাম নগরীতে কয়েকদিন আগেও জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হলেও এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে গাড়ির চাপ প্রায় নেই বললেই চলে। বরং কোথাও কোথাও কর্মীরা প্রায় অলস সময় পার করছেন, কারণ গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত নগরীর অন্তত ছয়টি ব্যস্ত ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকায় বাজারে কোনো সংকট নেই। ফলে আগের মতো অতিরিক্ত চাপও তৈরি হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুত করেছিলেন। এখন সেই মজুতকৃত তেল ব্যবহার করায় পাম্পে গ্রাহকের উপস্থিতি কমে গেছে। পাশাপাশি অকটেন সরবরাহ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং আতঙ্কও কমেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লালদীঘি মোড়, গণি বেকারি, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, নাছিরাবাদ ও দামপাড়া এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে আর আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই। কোথাও কোথাও এক-দুটি গাড়ি থাকলেও বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
একজন বাইকার জানান, আগে তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও এখন কোনো লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অল্প পরিমাণ তেল নিয়েই সহজে ফিরে যাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পাম্পের কর্মীরা জানান, দুই-তিন দিন আগেও গ্রাহকরা ট্যাংক ভরে তেল নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। কিন্তু এখন সেই প্রবণতা নেই। অনেকেই আগে মজুত করে রাখা তেল ব্যবহার করছেন। ফলে বিক্রির চাপ কমে গেছে, যদিও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দাম সমন্বয়ের পর মানুষ আর অতিরিক্ত তেল মজুত করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাছাড়া বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ডিজেল সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি এখনো রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ও পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ অনেকটাই কমে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ভবিষ্যতেও এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি আর বাড়বে না।








