কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় রশি টেনে পারাপার, ঝুঁকিতে ছয় গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কুমার নদের ওপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি যেন এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নগরকান্দা উপজেলার কল্যাণপট্টি, আইনপুর, সাভার, কুমারকান্দা ও বাঘুটিয়া এবং সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে এই নদী পারাপারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেতু না থাকায় তাদের ভরসা শুধুই ঝুঁকিপূর্ণ রশি-নির্ভর পারাপার ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
আরও পড়ুন: নাটোরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
বিজ্ঞাপন
কল্যাণপট্টি গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, “শত বছর ধরে আমরা এভাবেই নদী পার হচ্ছি। কিছুদিন আগে আমার হাত থেকে আমার নাতি নদীতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। আবার বিকল্প পথে গেলে অনেক দূর ঘুরতে হয়, আর খেয়া পারাপারে মাসে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমরা একটি সেতু চাই।”
সাভার গ্রামের রফিক শেখ বলেন, “স্কুলগামী শিশুদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই তারা নদীতে পড়ে যায়। স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন অবস্থা সত্যিই হতাশাজনক।”
স্থানীয় আরও ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বেড়ে গেলে রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
সালথা উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
বিজ্ঞাপন
দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—কুমার নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।








