সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে জেলে-বাওয়ালীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

বিজ্ঞাপন
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালীদের জন্য নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়রায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন সুতি বাজারে আয়োজিত এ উন্মুক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। সভায় তিনি বলেন, “জেলে-বাওয়ালী ও মৌয়ালীরা যাতে সুন্দরবনে নিরাপদভাবে মাছ, কাঁকড়া, মধু ও গোলপাতা আহরণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
আরও পড়ুন: নাটোরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
বিজ্ঞাপন
সভায় স্থানীয় মৌয়ালী মোঃ রেজাউল বলেন, দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বনদস্যুদের তৎপরতায় তারা নির্বিঘ্নে বনে প্রবেশ করতে পারছেন না। তিনি নিরাপদে বনে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কাঁকড়া জেলে মোসানূর অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করা হচ্ছে। অনেকেই বনের ভেতরে শুঁটকি তৈরির জন্য অবৈধ ঘাঁটি স্থাপন করে নিষিদ্ধ জাল ও কীটনাশক ব্যবহার করছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন। এখানে প্রায় সাড়ে তিনশ’ প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়ার আবাসস্থল রয়েছে। বনদস্যুদের দমন করতে বনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “যারা কীটনাশক দিয়ে চিংড়ি শিকার করে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে গোপনে প্রশাসনকে তথ্য দিন, ব্যবস্থা না নিলে আমাকে জানান।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম, কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শরিফুল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম (খুলনা রেঞ্জ)।
সভা শেষে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা ও দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।








