Logo

খুলনায় তরমুজ চাষ কমলেও খুশি কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
খুলনা
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩
খুলনায় তরমুজ চাষ কমলেও খুশি কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা অঞ্চলে চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ কম হলেও ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং ক্ষেত থেকেই ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে উঠছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা জেলায় ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দাকোপ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জাতীয় উৎপাদনের দিক থেকেও খুলনা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তবে গত বছরের তুলনায় আবাদ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর যেখানে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল, সেখানে এবার তা কমে ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টরে নেমে এসেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগের মৌসুমে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। ফলে এ বছর অনেকে তরমুজের বদলে সূর্যমুখীসহ অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুঁকেছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে খুলনার বাজারে বড় তরমুজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ছোট তরমুজ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েও কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

দাকোপ উপজেলার কৃষক মো. রুহুল আমিন জানান, ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং বিক্রি করেছেন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। লাভ খুব বেশি না হলেও লোকসান হয়নি, এতে তিনি সন্তুষ্ট।

একই উপজেলার কৃষক আব্দুল করিম বলেন, বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ভালো।

বিজ্ঞাপন

পাইকগাছা উপজেলার কৃষক রাজ্জাক জানান, বাজার ভালো থাকায় তাদের এলাকার অধিকাংশ তরমুজ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং ক্ষেত থেকে তুলে ফেলা হয়েছে।

জেলার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় প্রায় সব তরমুজ উত্তোলন শেষ হলেও দাকোপ উপজেলায় এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ জমির তরমুজ মাঠে রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খুলনার বিশেষ করে দাকোপের তরমুজ লাল রং ও মিষ্টি স্বাদের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। ইতোমধ্যে এসব তরমুজ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ও গুণগত মান দুটোই ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা গড়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করছেন।

আগামী এক মাস পর্যন্ত তরমুজ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আবাদ কিছুটা কম হলেও ভালো দামের কারণে মৌসুম শেষে কৃষকদের আয় সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD