ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ীর বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা, ক্রেতা সংকটে বিক্রেতারা

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে ২০৫ বছরের পুরোনো ফুলবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা।
বিজ্ঞাপন
দেশের বিভিন্ন জেলা—দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহসহ নানা প্রান্ত থেকে অন্তত দুই শতাধিক ঘোড়া নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা। তবে ঘোড়ার সমাগম বেশি হলেও ক্রেতা সংকটে কিছুটা হতাশ বিক্রেতারা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ঘোড়া কেনাবেচার জন্য আনুষ্ঠানিক ‘ছাপা’ (রশিদ) ইস্যু করা হবে। যদিও এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা এখন আনুষ্ঠানিক লেনদেনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা ও মেলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে বসেছে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, চরকি, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শনী, গ্রামীণ খাবারের দোকান এবং ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন মেলায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সব বয়সী মানুষের পাশাপাশি নারী দর্শনার্থীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ৯ বা ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৫ দিন ধরে চলে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। গরু, মহিষ বা ছাগলের তুলনায় এখানে মূলত ঘোড়ার বেচাকেনাই বেশি হওয়ায় এটি ‘বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা’ নামে দেশজুড়ে পরিচিত।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হাসান আলী একটি ঘোড়ার দাম চেয়েছেন ৪ লাখ টাকা, যদিও ক্রেতারা ৩ লাখ পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরামপুরের প্রবীণ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী তার বংশপরম্পরায় এই মেলায় অংশ নিয়ে আসছেন প্রায় ৬০ বছর ধরে। তিনি এবার একটি মাদি ঘোড়া এনেছেন, যার দাম রেখেছেন ১৫ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন পাঁচটি ঘোড়া এনেছেন, যার মধ্যে একটি বাচ্চাসহ মাদি ঘোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা এখনো প্রত্যাশিত মূল্য দিচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নাটোরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
মেলার ইজারাদার শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি অব্যাহত থাকবে।








