Logo

ধর্মপাশ ও মধ্যনগরে ধান-চালের দাম কমেছে সংকটে কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:২৪
ধর্মপাশ ও মধ্যনগরে ধান-চালের দাম কমেছে সংকটে কৃষক
ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ধান ও চালের বাজারে হঠাৎ দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে ধানের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে চালের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরাও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিমণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চালের বাজারে প্রতিকেজিতে ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দর কমেছে।

এদিকে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান নিয়ে গভীর হতাশা বিরাজ করছে। চৈত্র মাসের অকাল ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতায় দুই উপজেলার প্রায় সব হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভেঙে গেছে হাজারো বোরো চাষির স্বপ্ন। যেসব জমির ধান এখনো টিকে আছে, সেগুলোরও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান পরিস্থিতিতে লাভ-লোকসানের হিসাব কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা বুঝতে সর্বশেষ ধান ও চালের সরকারি দাম নির্ধারণের প্রতীক্ষায় ছিলেন বোরো চাষিরা। গত বুধবার(২২এপ্রিল) সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকের ধান ও চাল কেনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যা রীতিমতো হতাশ করেছে বোরো চাষিদের। এ ছাড়া হাওরের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চাল কেনা হবে ৪৮ টাকা কেজি দরে। গত বছরও কৃষকের ধান ও চাল কেনার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে এ একই দর নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমন অবস্থায় মধ্যনগর বাজারের ধান চাল ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতায় ফসলহানি আর ধান সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সরকারের আগের বাজার দরে ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্তে বেকায়দায় পড়বেন তারা।

এদিকে ভেজা ধান সংগ্রহে না রেখে শ্রমিকের মজুরি ও ঋণ পরিশোধের তাগিদে কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, হাওর থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত ধান পরিবহনের উপযুক্ত সড়ক এবং নৌপথে ধান-চাল পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় হাওরে রেখেই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। যেখানে সরকারি দামে মণপ্রতি তাদের ১ হাজার ৪০০ টাকার পাওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন

দুই উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্রি-২৮ ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল প্রায় ১৩০০ টাকা। জিরাশাইল ধান ১৯০০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৬০০ টাকায়। ব্রি-৮৮ ধান ১৩৫০ টাকা থেকে কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। ব্রি-২৯ ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, একইভাবে স্বর্ণা-৫ ধান ১২০০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০০০ টাকায়।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের বর্গা চাষী জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা যারা বর্গা নিয়ে চাষ করেছি, তাদের প্রতি বিঘা জমিতে ১ থেকে ২ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের ঠকাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ধর্মপাশা উপজেলার সদর বাজারের ধান আড়তদার এখলাছ ব্যাপারী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাইরের জেলার ক্রেতা কমে গিয়ে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে চাল ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের সংকটে রয়েছেন। বাজারে চালের দাম কমে যাওয়ায় তারা ধান বেশি দামে কিনতে পারছেন না। ধর্মপাশা বাজার ও মধ্যনগর বাজারে বিভিন্ন চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদেশ থেকে চাল আমদানি বেশি থাকায় দেশি চালের চাহিদা কমেছে। সর্বস্তরের কৃষকদের দাবি, ধান চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে।

উপজেলা কৃষ কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে টেকসই সড়ক অবকাঠামোর অভাবে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং দুর্ভোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি বেশি করায় দেশি চালের চাহিদা কমেছে। এজন্য বাজারে ধান ও চালের দাম একটু কম। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এরই মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD