ড্রেনেজ সংকটে জলাবদ্ধতাসহ মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে রাজবাড়ী পৌরসভা এলাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, সঙ্গে দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণির হলেও বাস্তবে নাগরিক সেবার মান নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক, এলোমেলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যানজট—সব মিলিয়ে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেন দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে সড়ক ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে তৈরি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা থেকে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে যাচ্ছে। বড় বাজার, পান্না চত্বর, বিনোদপুর, সজ্জনকান্দা ও হাসপাতাল সড়কসহ একাধিক এলাকায় এ সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে, তবুও যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশন সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। নিয়মিত কর প্রদান সত্ত্বেও সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বড়পুল, নতুন বাজার, মুরগি ফার্ম ও রেলগেট এলাকায় তীব্র যানজট নিত্যদিনের দুর্ভোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত দাস জানান, তার এলাকায় চলাচলের মতো উপযুক্ত সড়ক না থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে বাঁশের মাচা তৈরি করে যাতায়াত করছেন, যা নিয়মিত মেরামত করতে হচ্ছে। ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

অটোরিকশা চালক নান্নু মিয়া ও কাশেস সরদার বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে, এমনকি যাত্রীরাও আহত হচ্ছেন।
বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ও নিমাই চন্দ্র সাহা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার এলাকা পানিতে ডুবে যায়। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে ব্যবসা পরিচালনা করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আল মামুন সম্রাটের মতে, মূল ড্রেনগুলো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতার
এদিকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সদর হাসপাতাল, ভবনীপুর ও এতিমখানা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি এসব সড়ক উন্নয়নে প্রায় ১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ী শহরকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করা হবে।








