কুয়াকাটায় অভিভাবকহীন কালচারাল একাডেমি

সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার আদিম অধিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের শতবর্ষের ভাষা ও সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘রাখাইন কালচারাল একাডেমি’ দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাখাইন কালচারাল একাডেমি-এর লক্ষ্য ছিল রাখাইনদের ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ ও বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। তবে গত প্রায় আট বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমি ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। চারপাশে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থার মতো হয়ে পড়লেও জননিরাপত্তার জন্য এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম। কেরানীপাড়া এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ না থাকায় অনেকেই নিজেদের ভাষার বর্ণমালা থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী রাখাইন মং বলেন, “কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র হলেও এখানে আমাদের সংস্কৃতি চর্চার কোনো সুযোগ নেই।”
স্থানীয়দের মতে, একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে রাখাইন সংস্কৃতি প্রদর্শনের কোনো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম নেই।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে।
রাখাইন কালচারাল একাডেমির অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমং তালুকদার বলেন, “বিভিন্ন জটিলতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় আট বছরেও একাডেমিটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।”
বিজ্ঞাপন
শুধু রাখাইন সম্প্রদায় নয়, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেও একাডেমিটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাখাইনদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কুয়াকাটার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা রক্ষা করা না গেলে পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা একাডেমিটি পুনরুজ্জীবনের জন্য তিনটি প্রধান প্রস্তাব দিয়েছেন— জরাজীর্ণ ভবন পুনর্নির্মাণ করে বহুতল কমপ্লেক্স তৈরি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং রাখাইন তরুণদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
কুয়াকাটা এখন আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয়রা বলছেন, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে একদিন এই অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যাবে চিরতরে।








