রাস্তার ধারে জন্ম নেওয়া শিশুর পাশে উপজেলা প্রশাসন

জন্মের পর থেকেই অনিশ্চয়তায় ঘেরা এক নবজাতক। নেই মায়ের স্থায়ী ঠিকানা, নেই নিরাপদ আশ্রয়—এমনকি অজানা পিতৃপরিচয়। মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া এই শিশুটির জীবনের শুরুটাই ছিল অন্ধকারে মোড়া।
বিজ্ঞাপন
তবে সেই অন্ধকারে মানবিকতার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে রাস্তার পাশে জন্ম নেওয়া শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, বনগ্রাম ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে বসবাসরত এক ভবঘুরে নারী সম্প্রতি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর থেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন: রাজাপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি সভাপতির ছেলে আটক
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ। তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন।
এ সময় মানবিকতার টানে কয়েকটি নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে একটি উপযুক্ত দম্পতিকে শিশুটির অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে নবজাতকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ নিজ হাতে শিশুটিকে নতুন অভিভাবকের কোলে তুলে দেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন
ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, সে একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক।”
এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল খায়ের, দত্তক গ্রহণকারী দম্পতি ও তাদের পরিবারের সদস্যরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








