ঢাকা-খুলনা-মোংলা রুটে নতুন দুই ট্রেনের প্রস্তাব

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা-খুলনা-মোংলা রুটে দুটি নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে খুলনাসহ এ অঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে যাতায়াত সহজ করতে একটি নতুন কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী খুলনা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলরত ট্রেন দিয়ে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই নতুন ট্রেন চালু জরুরি।
আরও পড়ুন: রাজাপুরে ইয়াবাসহ বিএনপি সভাপতির ছেলে আটক
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) এর মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। নতুন কোচ সংগ্রহের ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।
অন্যদিকে, বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বেসরকারি পরিচালনা চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত ভাড়া, ভ্যাট ও কর পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ২৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকার এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন তিন বছরের জন্য ট্রেন দুটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল এবং চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে তারা কার্যক্রম শুরু করে। তবে নির্ধারিত আর্থিক দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, এ রুটে ১৯৯৯ সালে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয় এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলেও সেবার মান অবনতির কারণে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০১৭ সাল থেকে দিনে দুইবার কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়।
বর্তমানে চুক্তি বাতিলের পর ট্রেন দুটি আবার সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।








