Logo

পাবনায় আবাসিক হোটেলে তরুণীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
৬ মে, ২০২৬, ১৩:৫০
পাবনায় আবাসিক হোটেলে তরুণীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার
ছবি: প্রতিনিধি

​পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘লাকী হোটেল’ নামক একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে এক তরুণীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে হোটেলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক ইয়াসিন আলীসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী গা ঢাকা দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে হোটেল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হোটেলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বিছানার ওপর তরুণীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক-দুই দিন আগে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে বিছানা ভিজে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

​ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা সিআইডির বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং নিহতের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) গ্রহণ করেন। এরপর পাবনা সদর থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

শহরের ব্যস্ততম মার্কেটের মাঝে সরু সিঁড়ি দিয়ে উপরে অবস্থিত এই হোটেলের কোনো সাইনবোর্ড নেই। নাম-পরিচয় ছাড়াই এখানে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যেত। মাত্র ১০০ টাকায় রুম এবং ১২০০ টাকায় মাসিক বর্ডার রাখার সুবিধা থাকায় এখানে অপরাধীদের আনাগোনা ছিল নিত্যদিনের। দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটি অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

হোটেল মালিক ইয়াসিন আলী শহরের গোবিন্দা এলাকার মৃত হাজী বেলায়েতের ছেলে। তিনি হজ্জ কাফেলার ব্যবসার আড়ালে এই আবাসিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াসিন আলী মুঠোফোনে অসংলগ্ন কথা বলেন। তিনি নিজে হোটেলে থাকেন না এবং ম্যানেজার সব দেখভাল করেন বলে দাবি করলেও ট্রেড লাইসেন্স বা ভাড়ার নথিপত্র নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও এই হোটেলে একটি মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, আমরা নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পলাতক মালিক ও কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

​জনবহুল এলাকায় এমন একটি সাইনবোর্ডহীন হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ কার্যক্রম এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD