Logo

এফডিআর ইস্যুতে অপপ্রচার, উন্নয়ন ঠেকাতেই ষড়যন্ত্র: গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
৭ মে, ২০২৬, ২০:৫৮
এফডিআর ইস্যুতে অপপ্রচার, উন্নয়ন ঠেকাতেই ষড়যন্ত্র: গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক
ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুর জেলা পরিষদের ৬২ কোটি টাকার এফডিআর সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, এটি শুধু জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা নয়, বরং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্র।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গাজীপুর জেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল আর্থিক পরিকল্পনার কারণে পরিষদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ঝুঁকির মধ্যে ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই ঝুঁকি কাটিয়ে আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়েই এফডিআর স্থানান্তরের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক এফডিআর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং কিছু অর্থ এমন ব্যাংকে রাখা ছিল, যেগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

প্রশাসক জানান, প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে সোনালী ব্যাংকসহ উচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত নিরাপদ ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে শুধু আমানতের নিরাপত্তাই নিশ্চিত হয়নি, বরং আগের তুলনায় মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান প্রশাসনের আর্থিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন ব্যাংকে জেলা পরিষদের মোট আমানত ছিল প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিকল্পনার ফলে সেই আমানত বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১১৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই পরিষদের আর্থিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫০ কোটিরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “যারা দায়িত্বশীলভাবে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো দুঃখজনক। এ ধরনের সাফল্যের জন্য কর্মকর্তাদের তিরস্কার নয়, বরং পুরস্কৃত করা উচিত।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুবিধাভোগী একটি চক্র সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, “যারা বছরের পর বছর অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা এখন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই তারা অপপ্রচারে নেমেছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জেলা পরিষদের প্রতিটি আর্থিক কার্যক্রম সরকারি নীতিমালা ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো অভিযোগ তদন্তে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। জনগণের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অপপ্রচার চালিয়ে গাজীপুর জেলা পরিষদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।”

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD