মৌলভীবাজারে প্রকাশ্যে জুয়া ও মদের আসরের অভিযোগ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর নতুন বস্তি এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতেই প্রকাশ্যে বসছে জুয়া ও মদের আসর— এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকায় বহিরাগত ও স্থানীয় চিহ্নিত জুয়াড়ি এবং মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৯ মে) শেরপুর নতুন বস্তি এলাকার জুয়া ও মদের আসরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা এবং দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চললেও রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা ও তরুণদের বিপথগামিতা বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন বস্তির কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে তাস ও টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসে। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশপাশের এলাকা নয়, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকেও জুয়ারীরা সেখানে এসে অংশ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক ও জুয়ার স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপরাধ বাড়ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ ও যুবসমাজ মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ঘরের টাকা চুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক সেবন, চুরি ও ঝগড়া-বিবাদ বেড়েছে। সহজে টাকা আয়ের আশায় উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকদের একটি অংশ জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মামুন মিয়া বলেন, গতকাল রাতে আমরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে অভিযান চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে সেখানে জুয়ার আসর বসত, বর্তমানে তা আর বসে না। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও বর্তমান সময়ের নয়, অনেক আগের ভিডিও। তারপরও জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
জুয়া ও মদের আসরের বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।








