মৌলভীবাজারে ৩০ মণের ‘কালোমানিক’ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলায় বিশাল আকৃতির ‘কালোমানিক’ নামের একটি ষাঁড়কে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করা কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হলেও সবার নজর কেড়েছে এই বিশালাকার গরুটি। প্রায় ৩০ মণ ওজনের কালোমানিককে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন খামারে। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে দামও জানতে চাইছেন।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের উত্তরমুলাইম গ্রামের খামারি আব্দুল গপ্পার মিয়া তার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ‘জে আর ডেইরি’ নামে একটি খামার। দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাসের পর দেশে ফিরে শখের বসেই পরিত্যক্ত জমিতে তিনি এই খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের তিনটি আকর্ষণীয় কালো ষাঁড় লালন-পালন করা হচ্ছে। ঘন কালো পশমে ঢাকা বড় আকারের এই গরুগুলোর দৃষ্টিনন্দন গঠন সহজেই সবার নজর কাড়ছে।
খামার মালিক জানান, তার খামারের একটি গাভী থেকে পরপর কয়েকটি বাছুর জন্ম নেওয়ার পর থেকেই গরু পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে বড় করেছেন এই তিনটি ষাঁড়কে। পরিবারের সদস্যরাও আদর করে তাদের নাম রেখেছেন ‘কালোমানিক’। বর্তমানে তিনটি গরুই এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
খামারের এক শ্রমিক বলেন, “বড় কালোমানিকটির ওজন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ মণ হবে। প্রায় তিন বছর ধরে অনেক যত্নে তাকে বড় করেছি। এখন বিক্রি করতে মন খারাপ লাগছে।” তিনি আরও জানান, গরুগুলোর প্রতি পরিবারের সবার আলাদা মায়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিশাল আকৃতির এই গরুগুলো দেখতে প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন। অনেকের মতে, মৌলভীবাজার জেলায় এত বড় গরু খুব কমই দেখা যায়। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, কালোমানিকের আকার ও সৌন্দর্য সত্যিই ব্যতিক্রম।
খামার মালিক আব্দুল গপ্পার মিয়া জানান, বাজারদরের তুলনায় তিনি তুলনামূলক কম দাম চাচ্ছেন। তবে ন্যায্য মূল্য পেলেই গরুগুলো বিক্রি করবেন। তার ভাষ্য, সবচেয়ে বড় কালোমানিকটির দাম আগে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, কিন্তু তখন বিক্রি করেননি। বর্তমানে তিনি গরুটির দাম চাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা। অন্য দুটি গরুর জন্য মোট ১১ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বড় কালোমানিকটির বয়স প্রায় তিন বছর। অন্য দুটি আড়াই বছরের কাছাকাছি। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে প্রতিটি ষাঁড়কে প্রায় ১২ কেজি দানাদার খাদ্য, ২০ কেজি ঘাস এবং ৭ কেজি খড় খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে প্রায় ৮০০ টাকা খরচ হয়। মাস শেষে শুধু খাবারের খরচই প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছে যায়।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর মৌলভীবাজারে কোরবানির পশুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবেই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন খামারে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিশাল আকৃতির কালোমানিককে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, কালোমানিকই বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বড় গরু। তিনি আরও জানান, এ বছর জেলায় ৭৪ হাজার ৫৮৪টি কোরবানির পশু উৎপাদন হয়েছে, যেখানে চাহিদা রয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২টি। স্থানীয় উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাইরের দেশ থেকে গরু আসা ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।








