মৌলভীবাজার থেকে জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় বিশেষ গোপন অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন “মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ”-এর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠনটির সদস্য রাহেদ হোসেন মাহেদ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম নূর মিয়া এবং মায়ের নাম মোছা. সাফিয়া খানম।
বিজ্ঞাপন
পূর্বঘোষিত রেড অ্যালার্ট কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বড়লেখা থানার একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। জেলা পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম–এর নির্দেশনায় এবং বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান–এর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে বড়লেখা থানার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকায় প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি উঁচু টিলা থেকে রাহেদ হোসেন মাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের তদন্তাধীন একটি মামলার আসামি। ঢাকার শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পর একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ওই ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাহেদ উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এছাড়া রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন








