Logo

কুষ্টিয়ায় খামারিদের দুশ্চিন্তা, ঈদে গরুর ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের শঙ্কা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১৭ মে, ২০২৬, ১৩:১০
কুষ্টিয়ায় খামারিদের দুশ্চিন্তা, ঈদে গরুর ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের শঙ্কা
ছবি: প্রতিনিধি

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা গরু-ছাগলের জন্য দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে কুষ্টিয়ার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুষ্টিয়ার গবাদিপশুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় কোরবানির ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন এখানকার খামারিরা।

বিজ্ঞাপন

এবারও জেলার বিভিন্ন খামার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় দুই লাখের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গোখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে প্রত্যাশিত দাম না পেলে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পশু খামার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার খামারিরা আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের দাবি, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ গোখাদ্যের মাধ্যমেই পশু লালন-পালন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাসান আলী এগ্রোর খামারি মনোহার আলী বলেন, আগে তুলনামূলক বেশি গরু পালন করা হতো। এখন লাভ কমে যাওয়ায় অনেকেই সীমিত সংখ্যক গরু প্রস্তুত করছেন। লাভ বেশি হলে উৎপাদনও বাড়তো।

একই এলাকার পিয়াস এগ্রোর খামারি মো. পিয়াস জানান, বাজারে পশুর দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এবার অল্প সংখ্যক গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের খামারে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই গরু মোটাতাজা করা হয়। এজন্য কুষ্টিয়ার পশুর আলাদা চাহিদা রয়েছে।

আরেক খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারত থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন এবং কিছুটা লাভবান হবেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মণ্ডল জানান, কুষ্টিয়ার প্রায় ১৯ হাজার খামারে দুই লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় এক লাখ পশু হলেও অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, খামারিদের দেশীয় খাবার ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন কোরবানির পশুর জন্য বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ভারত থেকে পশু আমদানি হলে দেশের খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD