Logo

দড়ি ছাড়াই চলাফেরা করে ১৩শ কেজির ‘নেইমার’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
যশোর
১৭ মে, ২০২৬, ১৪:৩২
দড়ি ছাড়াই চলাফেরা করে ১৩শ কেজির ‘নেইমার’
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন খামারে চলছে কোরবানির পশুর পরিচর্যা ও প্রস্তুতি। এরই মধ্যে অভয়নগর উপজেলার দুটি বিশাল আকৃতির ষাঁড় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটির নাম ‘নেইমার’, অন্যটির নাম ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। বিশাল আকৃতি, শান্ত স্বভাব ও আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিদিনই এসব গরু দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

বিজ্ঞাপন

অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের ভাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাড়ের খামারে বেড়ে উঠেছে ‘নেইমার’ নামের বিশাল এক ষাঁড়। খামারির দাবি, ফ্লেকভি জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি বা প্রায় ৩৫ মণ। মাথার সামনের চুলের বিশেষ আকৃতির সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের স্টাইলের মিল থাকায় শখ করে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’।

স্থানীয়দের বিস্মিত করে বিশালাকৃতির এই ষাঁড়টি খামারের আশপাশে দড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ায়। খামারি দেবু পাড়ে জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। শান্ত স্বভাবের কারণে গরুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে খুব একটা সমস্যা হয় না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রতিদিন গরুটির খাবারের পেছনে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। খাদ্য তালিকায় থাকে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস এবং খুদের ভাত। তাদের খামারে মোট ছয়টি গরু থাকলেও ‘নেইমার’-ই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে।

দেবু পাড়ে জানান, এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। তবে ঈদের আগেই ভালো দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগ্রহী ক্রেতারা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে দরদাম করছেন বলেও জানান তিনি।

বিশাল এই ষাঁড়টির দেখাশোনায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেন খামারির মা ইতি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যের মতো করেই ‘নেইমার’-এর যত্ন নেওয়া হয়। তবে সংসারের প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত গরুটি বিক্রি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ‘নেইমার’-এর খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে গরুটির সম্ভাব্য দাম ও ওজন সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

স্থানীয় খামারি সুদিপ মন্ডল বলেন, এবারের কোরবানির হাটে ‘নেইমার’ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। আরেক খামারি কানু বিশ্বাস জানান, গরুটির গঠন ও সৌন্দর্য দুটোই নজরকাড়া।

একই উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ফুলেরগাতী গ্রামে আরও একটি বিশাল ষাঁড় নিয়ে চলছে আলোচনা। খামারি প্রসেনজিৎ রায়ের পারিবারিক খামারে চার বছর ধরে বেড়ে উঠছে ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ নামের ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড়। খামারির দাবি, গরুটির ওজন প্রায় ১৬০০ কেজি।

বিজ্ঞাপন

প্রসেনজিৎ রায় জানান, প্রতিদিন প্রায় ১৭শ টাকার খাবার খায় ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও খুদের ভাত। গত বছর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করা হয়নি। তবে এবার ঈদে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, এত বড় আকারের গরু এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। ফলে দুই খামারেই প্রতিদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার আট উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। অনেক খামারি পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় আকৃতির গরু প্রস্তুত করেছেন। তার মতে, অভয়নগরের ‘নেইমার’ ইতোমধ্যেই এবারের কোরবানির বাজারে অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD