Logo

মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
২২ মে, ২০২৬, ১২:৫১
মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান গত ১৬ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে পরদিন ১৭ মে আসামির ডিএনএ নমুনা জমা দেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোণা সদর কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে আসামি কারাগারে রয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ জুন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামির ডিএনএ নমুনা সিআইডিতে জমা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। পরে সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন পান।

বিজ্ঞাপন

মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ১০ মে বিকেলে আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে আসামির ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ১১ মে (সোমবার) মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর একটি প্রতিনিধি দল নেত্রকোণায় ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ি পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলে থাকা সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার সেলিনা আক্তার ও ইনভেস্টিগেটর তাওহীদ আহমেদ রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি প্রায় ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হোম) পাঠানো হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন ও নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD