ধর্ষকদের ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি চসিক মেয়রের

শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, আইন সংশোধন করে ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তিন শিশুকে দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, ছোট শিশুদের চকলেট বা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধীরা ফাঁদে ফেলছে, যা সমাজের ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন করে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অল্প বয়সী শিশুদের একা দোকানে বা বাইরে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্য তুলে ধরে মেয়র জানান, গত আট বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচের শিশু নির্যাতনের অন্তত ৪২২টি ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। তবে সামাজিক সংকোচ ও লোকলজ্জার কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না বলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ সময় কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মেয়র। তিনি চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যেসব মা পরিবার চালাতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তুলনায় একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা খুব বড় বিষয় নয়।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর ১৫টি থানার সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, নগরের বিত্তবানদের সহায়তায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
গত বর্ষাকালে হালিশহরে এক গার্মেন্টস কর্মীর শিশুসন্তান ড্রেনে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন মেয়র। তিনি বলেন, শিশুটির দেখাশোনার কেউ না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার দায় সমাজের কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না।
বিজ্ঞাপন
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মো. তসলিম উদ্দীন জানান, তিনটি শিশুই বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশুরা বয়সে ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। তবে মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় চিকিৎসকেরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।








