কাপাসিয়ায় লাম্পি স্কিন রোগের প্রকোপ, গরুর মৃত্যুতে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) বা লাম্পি রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে গরুর শরীরে গুটি, জ্বর, ফোলা ও ঘা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত গরুর প্রথমে জ্বর দেখা দেয়। এরপর শরীরজুড়ে গুটি ও ফোলা তৈরি হয়, যা অনেক সময় পেকে ঘা হয়ে যায়। এতে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, ফলে উৎপাদনও কমে আসে।
টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, তার সাত মাস বয়সী একটি ষাঁড় বাছুর লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই গ্রামের শামসুল হক বলেন, চিকিৎসা করাতে খরচ হলেও তার বাছুর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বারিষাব ইউনিয়নের আতিকুর রহমান ও রায়েদ ইউনিয়নের রুবেল প্রধানসহ একাধিক খামারি জানান, তাদের একাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে। কেউ কেউ গরু হারিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন জানান, এটি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা মশা-মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা চলছে এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি খামারিদের নিয়মিত টিকা প্রদান, খামার পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে খামারিরা দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো যায়।








