সাতবারের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম আর নেই

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলাম আর নেই। রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ষাটের দশকের গণআন্দোলনের সময় প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। স্বাধীনতার পর সাধারণ মানুষের অধিকার ও এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিকে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বামধারার রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি লাভ করেন।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় সংসদে যাওয়ার আগে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, সেচ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
১৯৮৬ সালে প্রথমবার ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হন। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এ যোগ দিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সব মিলিয়ে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর সময় এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ সংযোগসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্কেরও মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রভাব বিস্তার, জমি দখল ও রাজনৈতিক বিরোধ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন উন্নয়নমুখী ও গণমানুষের নেতা।
শেষ জীবনে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন দবিরুল ইসলাম। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে দবিরুল ইসলামের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।








