নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হচ্ছে কোরবানির চামড়া

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতা না থাকায় সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন বা মাটিতে পুঁতে দিচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৌসুমি চামড়া সংগ্রহকারী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ মে) সকালে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা চামড়ার একটি বড় অংশ বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে স্তূপ করে ফেলে রাখা দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এসব চামড়া ফেলে রাখা হয়েছে।
ঈদের দিন থেকেই স্থানীয়ভাবে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও সারাদিন অপেক্ষা করেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় কেউ মাটিতে পুঁতে দিচ্ছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের বাজার পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক খারাপ। আড়তদাররা খুব কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয় ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনছেন না।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদরাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারাদিন অপেক্ষা করেও চামড়া বিক্রি করা যায়নি। বাধ্য হয়ে কিছু চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, সাধারণত কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ মেটানো হয়। কিন্তু এবার চরম দরপতনের কারণে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে। শামসুজ্জামান কনক জানান, কোরবানির আগে চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হলেও এভাবে নষ্ট করা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংরক্ষণ অবকাঠামোর ঘাটতি, আড়ত ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজারে সমন্বয়ের অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।








