Logo

সালথার পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সালথা, ফরিদপুর
৩ জুন, ২০২৬, ১৩:৩২
সালথার পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি দূষিত হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নদীপারের কয়েক হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, অসাধু মাছ শিকারিদের অবাধ তৎপরতায় দোহার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে দোহায় গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ফলে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে এবং পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেওয়ালীকান্দা, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, চরবাঙ্গরাইল, রায়েরচর, গুচ্ছগ্রাম, বিষ্ণুদি ও কাকদী এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই দোহার পানির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে সেই পানি পান, রান্না কিংবা গোসলের জন্যও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মোল্লা বলেন, গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহারের কারণে পুঁটি, শৈল, গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।

রোকন মোল্লার অভিযোগ, এই পানি দিয়ে রান্না করা যায় না। গোসল করলেও শরীরে চুলকানি ও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

হেমায়েত মোল্লা বলেন, দোহার পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সমস্যার মধ্যে আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সুমন মোল্লা জানান, রাত হলেই কিছু লোক এসে বিষ দিয়ে মাছ ধরে। বাধা দিলেও তারা কোনো কথা শোনে না।

বাচ্চু মোল্লার আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই দোহায় আর কোনো দেশীয় মাছ অবশিষ্ট থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ঘটনা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জড়িত চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান (শাহিন) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই দোহার পানি ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা, দোহা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেখানে একটি মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD