Logo

জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নিহত

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
৩ জুন, ২০২৬, ১৩:৫০
জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মী নিহত
ফাইল ছবি।

ময়মনসিংহ নগরীতে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে বিএনপির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতের এক নেতার ছেলে মাহিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহে মাহিন নামে এক জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে বিএনপির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

গুরুতর আহত অবস্থায় রানা মিয়াকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পেশায় অটোরিকশাচালক নিহত রানা মিয়া ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপির সক্রিয় একজন কর্মী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবারের (১ জুন) একটি বাগবিতণ্ডার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে রানা মিয়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন।

বিজ্ঞাপন

নিহতের স্বজন মাহাবুব জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। সেই সময় থেকে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন তরুণ তাদের বাড়ির সামনে একটি দোকানে এলে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার বিকেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

মাহাবুবের অভিযোগ, বিকেলে মফিদুল ইসলামের ছেলে মাহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাইকে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং অভিযুক্ত মাহিনের বাবা মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বলে আমরা জেনেছি। এটি পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি।

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। সে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এটি রাজনৈতিক বিরোধের ফল নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD