Logo

উঠানের ঘাস খাওয়ায় ছাগল হত্যা, জানতে চাওয়ায় নারীকেও হত্যা!

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সাভার, ঢাকা
৬ জুন, ২০২৬, ১৭:২৪
উঠানের ঘাস খাওয়ায় ছাগল হত্যা, জানতে চাওয়ায় নারীকেও হত্যা!
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ছাগলকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিরোধের জেরে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রুপবান বেগম (৪৫) নামে ওই নারী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। এর আগে সকালে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুপবান বেগমের মৃত্যু হয়।

নিহত রুপবান বেগম আশুলিয়ার তাজপুর এলাকার বাসিন্দা এবং জয়নাল সরকারের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার বাসিন্দা আলি সরকারের নাম উঠে এসেছে। তিনি মৃত সুলতান সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে রুপবান বেগমের একটি ছাগল পাশের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে ঘাস খেতে শুরু করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রতিবেশী আলি সরকার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছাগলটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলেন।

পরে ছাগলটির বিষয়ে জানতে এবং ঘটনার কারণ জানতে আলি সরকারের কাছে যান রুপবান বেগম। এ সময় দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলি সরকার তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে রুপবান বেগমের পায়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত অবস্থায় রুপবান বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাণ হারান।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আলি সরকার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তালিব জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর তাজপুর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর তারা হতবাক। প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এমন সহিংস পরিণতি কেউ কল্পনা করেননি।

অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধের ক্ষেত্রে সংযম ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সংস্কৃতি জোরদার না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিরোধের পটভূমি এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে নিহত রুপবান বেগমের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD