Logo

প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গণধোলাই

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
৬ জুন, ২০২৬, ১৮:১৮
প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গণধোলাই
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৫ জুন) গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচিত এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোহেল রানা পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ভিজিডি কার্ড, সরকারি ঘর, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন সোহেল রানা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধা না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ ও সন্দেহ বাড়তে থাকে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদের ভাষ্য, সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো কার্ড পাননি।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন হোটেলকর্মী তায়জাল হোসেন। তিনি জানান, সরকারি ঘর পাওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অর্থ লেনদেনের প্রমাণ থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ঘর পাননি।

স্থানীয়দের দাবি, অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাত থেকে আট মাস কিংবা তারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কোনো ধরনের সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী শিখা খাতুন বলেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, লোকজন কেন অর্থ দিয়েছেন সেটিও বিবেচনার বিষয়। তবে যারা টাকা দিয়েছেন তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতেও অর্থ লেনদেন ও প্রতারণাসংক্রান্ত অভিযোগ শোনা গেছে। এ কারণে তাকে দলের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD